প্রায় ৯ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-নোয়াখালীসহ ঢাকা থেকে পূর্বাঞ্চল জোনের ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। তবে ট্রেন চলাচল শুরুর মাত্র ২০ মিনিটের মাথায় ইঞ্জিন বিকল হয়ে আটকা পড়েছে পারাবত এক্সপ্রেস। এতে এক লাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে।
ওই রুটে ডাবল লাইন থাকায় অন্য লাইন দিয়ে ট্রেন চলাচল করছে বলে জানিয়েছেন রেলওয়ে সংশ্লিষ্টরা। এদিকে ঘটনা তদন্তে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেলে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিভাগীয় রেলওয়ে (ডিআরএম) ম্যানেজার কামরুজ্জামান ।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বেলা ১২টায় ভৈরবে আটকে থাকা পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেন চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়ার মাধ্যমে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়। এর আগে সোমবার দিবাগত রাত ৩টায় ভৈরব রেলওয়ে জংশন স্টেশনে আউটার সিগন্যালের ঢাকা মেইল-২ (ডাউন) এর একটি বগি লাইনচ্যুতির ঘটনা ঘটে। এতে রাত সাড়ে ৩টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত ঢাকার সঙ্গে পূর্বাঞ্চল জোনের ট্রেন যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এ ঘটনায় লাইনম্যানের গাফিলতি আছে কি-না তা খতিয়ে দেখছেন রেলওয়ে কর্মকর্তারা। ইতোমধ্যে ঘটনা তদন্তের জন্য বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তাকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
ভৈরব রেলওয়ে স্টেশন সূত্র জানায়, সোমবার ১১টা ৪৫ মিনিটে ঢাকা কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে (চট্টগ্রাম মেইল) ঢাকা মেইল-২ (ডাউন) ট্রেন। রাত ২টা ৪০ মিনিটে ভৈরবে পৌঁছালে বিরতির ৪০ মিনিট পর ৩টা ২০ মিনিটে ভৈরব থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। স্টেশন থেকে আউটার সিগন্যালে যেতে না যেতেই কয়েক মিনিটের মধ্যে ট্রেনের ইঞ্জিন থেকে চার নাম্বার বগির সামনের দুইটি চাকা লাইনচ্যুত হয়।
এ সময় ঢাকার সাথে পূর্বাঞ্চল জোনের সকল ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে প্রায় ৯ ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী পর্যটক এক্সপ্রেস ট্রেন ও ঢাকাগামী এগারো সিন্দুর এক্সপ্রেস ট্রেন ভৈরবে আটকে থাকে। অন্যদিকে কুলিয়ারচর স্টেশনে বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেন, নরসিংদীর দৌলতকান্দিতে সিলেটগামী পারবত এক্সপ্রেস ট্রেন, চট্টগ্রামগামী সোনারবাংলা এক্সপ্রেস ট্রেন খানা বাড়িতে ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টেশনে তূর্ণা নিশিতা ও তিতাস কমিউটার ট্রেন আটকে থাকে।
রেলওয়ের একটি সূত্র থেকে জানা যায়, অপারেটের সিস্টেম থেকে অনলাইনে ক্রসিং লাইনে কোনো সিগন্যাল যায়নি। এটি পয়েন্ট ম্যানের কাজ ছিল। তবে কি কারণে ত্রুটি হয়েছে, এটি তদন্ত ছাড়া বলা যাবে না।
বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার কামরুজ্জামান (ডিআরএম) বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছি। সকাল ৮টায় আখাউড়া থেকে রিলিফ ট্রেন এনে দুর্ঘটনাকবলিত বগিটি উদ্ধার করে রেললাইনের কাজ মেরামত করা হয়। পরে মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট রুটে সিঙ্গেল লাইন চালু করে আপাতত ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে জেনেছি রেলওয়ে পয়েন্টম্যানের গাফিলতি রয়েছে। ভুলভাবে পয়েন্ট সেট করে সিগন্যাল দেওয়ার কারণে দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। প্রাথমিকভাবে জেনেছি বলেই আমরা বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তাকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। এই ঘটনার সঙ্গে রেলওয়ের অন্য কেউ কারো গাফিলতি আছে কিনা এ বিষয়ে তদন্ত করা হবে।
এদিকে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা আন্তঃনগর পারাবত এক্সপ্রেস ট্রেনটি দুপুর ২ টার দিকে ভৈরব বাজার রেলস্টেশন টি অতিক্রম করার সময় হঠাৎ ইঞ্জিল বিকল হয়ে পড়ে। ফলে ট্রেনের যাত্রীরা বিপাকে পড়ে যায়। তবে বিকল্প আরেকটি রেললাইন দিয়ে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক থাকে।
ভৈরব স্টেশনমাস্টার মো. ইউসুফ গণমাধ্যমকে জানান, আগের দুর্ঘটনার পর মাত্র ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছিল। পারাবত ট্রেনে ইঞ্জিনে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় আবারও আটকে পড়ে।
