‘আমেরিকা ফার্স্ট’ শুধু তার ভোট-প্রচারের স্লোগান নয়! দ্বিতীয় বার হোয়াইট হাউসে আসার বর্ষপূর্তির মুখেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে আমেরিকাই ফার্স্ট। তার কাছে আমেরিকানদের নিরাপত্তাই প্রায়োরিটি। জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে— শুধু এই আশঙ্কাতেই চলতি বছরে এখনও পর্যন্ত তার প্রশাসন ৮৫ হাজার ভিসা বাতিল করেছে বলে খবর। গত বছরের তুলনায় যা প্রায় দ্বিগুণ
মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টই জানিয়েছে, বাতিলের খাতায় রয়েছে অন্তত ৮ হাজার শিক্ষার্থী-ভিসা। যার অর্থ, ট্রাম্পের সেকেন্ড ইনিংসে ওয়াশিংটনের কড়া ভিসা নীতির কারণে চাপে পড়েছেন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরাও!
ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর থেকেই অবৈধ অভিবাসীদের তাড়ানো শুরু হয়েছে। অভিযোগ, হালে বৈধ অভিবাসীদেরও টার্গেট করা শুরু হয়ে গিয়েছে। সূত্রের খবর, আমেরিকায় ঢোকার ক্ষেত্রে অন্তত ৩০টিরও বেশি দেশের উপরে নিষেধাজ্ঞা চাপাতে চলেছেন ট্রাম্প। শোনা যাচ্ছে, এইচ-১বি ভিসা পুরোপুরি তুলে দেওয়ার কথাও ভাবা হচ্ছে। এই আবহেই এ বার জানা গেল ৮৫ হাজার ভিসা বাতিলের তথ্য। কেন এত কড়াকড়ি। কোনও রকম রাখঢাক না-রেখেই ট্রাম্প প্রশাসনের ঘোষণা— জন-নিরাপত্তার মান বজায় রাখার পাশাপাশি আমেরিকান কমিউনিটিকে রক্ষা করার ক্ষেত্রে এ ছাড়া আর কোনও উপায় ছিল না।
মার্কিন বিদেশ দপ্তরের এক অফিসার নাম গোপন রাখার শর্তে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, গত এক বছরে যত ভিসা বাতিল হয়েছে, তার অর্ধেকেরও বেশির পিছনে রয়েছে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো, চুরি-ছিনতাই, দুষ্কৃতী হামলার মতো ঘটনার যোগ। ভিসা বাতিলের সুনির্দিষ্ট আর কোনও কারণ নিয়ে মুখই খোলেননি ট্রাম্প প্রশাসনের কেউ।
তবে সূত্রের দাবি, ভিসার মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়া ও ‘সন্ত্রাসে সমর্থন’র অভিযোগও ভিসা বাতিলের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে প্রশাসন। গত অক্টোবরে গাজ়া যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার কারণে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ইহুদি-বিদ্বেষী আচরণ ও সন্ত্রাসবাদকে সমর্থনের অভিযোগ তুলেও ট্রাম্প প্রশাসন বেশ কিছু স্টুডেন্টস ভিসা বাতিল করে। যা নিয়ে ‘মতপ্রকাশের স্বাধীনতা’র মতো বিষয় নিয়ে উদ্বেগও তৈরি হয়। পাশাপাশি যে সব বিদেশি শিক্ষার্থী চার্লি কার্ক হত্যাকাণ্ড নিয়ে ‘উল্লাস’ করেছেন বলে অভিযোগ, তাদেরও কিছু ভিসা গিয়েছে বাতিলের খাতায়।
