[ad_1]
এর ফলে মাদাগাস্কার, নেপাল, মরক্কো, সার্বিয়া ও ইন্দোনেশিয়া—সবখানে আমরা একই রকম ভিজ্যুয়াল ভাষা, স্লোগান, রিদম ও ‘প্রতীকের খেলা’ দেখতে পারছি। যা ইতঃপূর্বের আন্দোলন থেকে ভিন্ন।
তবে ক্ষোভের স্থানীয় ব্যাকরণ ভিন্ন; শ্রীলঙ্কার জ্বালানি-সংকটের চিকিৎসা যেমন বাংলাদেশে কপি-পেস্ট চলে না; তেমনি মাদাগাস্কারের ব্ল্যাকআউট-রাজনীতির সমাধান নেপালের সেন্সরশিপ-বিরোধী রাজনীতিতে প্রযোজ্য না–ও হতে পারে।
তাই ‘গ্লোবাল ইমাজিনেশন’-এর সঙ্গে ‘লোকাল গ্রিভ্যান্স-ডায়াগনসিস’ মিলিয়ে দেখা জরুরি।
জেন জেডের আন্দোলন এখনো কোনো একক ‘আন্তর্জাতিক সংগঠন’ নয়; বরং ‘গ্লোবাল কনভারসেশন’। এতে অংশ নেওয়া তরুণেরা দেখিয়ে দিচ্ছেন, গণতন্ত্র কেবল ভোটের চক্রের নাম নয়।
গণতন্ত্র হলো প্রতিদিনের কণ্ঠ, প্রতিদিনের আলাপের জায়গা। শ্রীলঙ্কার আরাগালায়া আমাদের শেখায় অর্থনৈতিক ন্যায় ও শাসন-নীতির প্রশ্নে তরুণদের ধৈর্য সীমিত।
বাংলাদেশের কেস আমাদের দেখায়—ডিজিটাল সংগঠন কত দ্রুত জনসমাবেশে রূপ নিতে পারে এবং তথ্য নিরাপত্তাহীনতা কত বড় হুমকি।
মাদাগাস্কার, নেপাল, মরক্কো, সার্বিয়া, ইন্দোনেশিয়ার অভিজ্ঞতা আরও একটি কথা মনে করায়, ক্ষোভের সূত্রপাত ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু ‘শোনা হোক’, ‘দেখা হোক’, ‘ভবিষ্যৎ নিরাপদ হোক’ এই তিনটি দাবিতে পৃথিবীর তরুণেরা এক সুরে গাইছে।
এই সুর নীতিনির্ধারকদের জন্য সতর্ক-স্নিগ্ধ দুই বার্তাই আছে। সতর্ক হতে হবে; কারণ, এই দাবি উপেক্ষা করলে তরঙ্গ সুনামিতে বদলে যায়, ক্ষমতাকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়।
আবার স্নিগ্ধ একটি ব্যাপারও আছে। যেমন যদি অংশীদারত্বের দরজা খুলে দেওয়া হয়, তবে এই তরুণদের তরঙ্গই হতে পারে টেকসই গণতন্ত্রের নতুন জ্বালানি। প্রশ্ন হলো রাজনৈতিক নীতিনির্ধারকেরা কি শুনবেন এই আওয়াজ?
-
আসিফ বিন আলী শিক্ষক, গবেষক ও স্বাধীন সাংবাদিক। বর্তমানে কাজ করছেন আমেরিকার জর্জিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটিতে।
[ad_2]
Source link
